বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের উত্থান ও মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সম্পদের এ উত্থান দেখা গেছে। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার নিউইয়র্কের শেয়ারবাজার লেনদেন শেষে এ রেকর্ড গড়ে ওঠে।
পাশাপাশি বিশ্বের ৫০০ ধনী ব্যক্তির সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ বেড়ে ১৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এটিও একটি নতুন রেকর্ড।
তালিকার শীর্ষে থাকা ইলোন মাস্কের সম্পদ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। বর্তমানে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ২৭ ট্রিলিয়ন ডলার। একদিনেই ধনকুবেরের সম্পদ ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
মাস্কের সম্পদে বড় উল্লম্ফনের মূল কারণ স্পেসএক্স। গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এরপর বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহে গত সপ্তাহে স্পেসএক্সের বাজারমূল্য ২০ শতাংশ বেড়ে যায়।
ফলে একদিনেই মাস্কের সম্পদে যোগ হয়েছে ১৬৪ বিলিয়ন ডলার। এ অংক প্রায় বাকি ৪৯৯ ধনীর সম্মিলিত সম্পদ বাড়ার সমান। ব্লুমবার্গের সূচকে থাকা অন্য ৪৯৯ জনের মোট সম্পদ বেড়েছে প্রায় ১৭২ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে ইতিবাচক মনোভাবও এ উত্থানের পেছনে কাজ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতায় পৌঁছানোর পর বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কমে আসে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা কিছুটা কমে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের বড় অংশ এ পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। তাই প্রণালিটি নিয়ে যেকোনো সংকট বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব ফেলে।
ধনীদের সম্পদ বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক সম্পদ বৈষম্যের চিত্রও আরো স্পষ্ট হয়েছে। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, তালিকার শীর্ষ ৫০ ধনীর হাতে এখন ৬ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ রয়েছে। অন্যদিকে তালিকার বাকি ৪৫০ জনের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ৬ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র ৫০ জনের হাতে থাকা সম্পদের পরিমাণ প্রায় বাকি ৪৫০ জনের মোট সম্পদের সমান।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের সম্পদ বাড়ার গতি অন্য খাতের তুলনায় বেশি দেখা গেছে। ইলোন মাস্ক তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি, মহাকাশ প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট ব্যবসার কারণে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান আরো শক্ত করেছেন।